সম্প্রতি বাংলাদেশে ট্রান্সজেন্ডারসহ এলজিবিটিকিউ কমিউনিটির বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। কিন্তু কেন?
রাষ্ট্র একই ভূখণ্ডে বসবাসরত সকল নাগরিকের মৌলিক অধিকারসহ মানবাধিকারের নিশ্চয়তা বিধান করবে। এটি নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্রের কর্তব্য। রাষ্ট্রের পাশাপাশি দেশের ভিন্ন ধর্ম, বর্ণ, জাতিসত্তা এবং যৌন পরিচয়ের মানুষ নিজস্ব পরিচয় নিয়ে স্বাধীনভাবে জীবনযাপন করার অধিকার রাখে।
তৃতীয় বিশ্বের বাংলাদেশ নামক দেশে স্বাধীনতার পরবর্তী সময় থেকেই মৌলবাদ ও উগ্রবাদের উত্থানের গল্পটা শুরু। ১৯৭৫-পরবর্তী প্রেক্ষাপটে সামরিক শাসক, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান সকল ধর্মভিত্তিক দলের ওপর রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেন। এর মধ্য দিয়েই ধর্মীয় রাজনীতির নামে উগ্রবাদ, সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থার মধ্য দিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মতবাদের ধর্মীয় রাজনৈতিক দলের আকস্মিক উত্থান ঘটে। এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমানে জাতীয় সংসদেও জামায়াতে ইসলামী, খেলাফতে মজলিসের মতো ধর্মীয় উগ্রবাদী চরমপন্থীদের রাজনৈতিক ভূমিকা দৃশ্যমান দেখা যাচ্ছে। এমনকি দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতেও এর দৌরাত্ম্য বেড়েছে। এটি উদ্বেগের।
গত বছর দেশের প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত, যেখানে প্রগতিশীলতা ও মুক্তমতের চর্চার কেন্দ্রস্থল, সে বিশ্ববিদ্যালয়েও দেখা গেল ইসলামপন্থী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি পক্ষ ট্রান্সজেন্ডার কোটা বাতিলসহ কয়েকটি দাবিতে একদল শিক্ষার্থী স্মারকলিপি দিচ্ছে। এবং পরবর্তীতে সংবাদ সম্মেলনে এক শিক্ষার্থী বলেন, “ট্রান্সজেন্ডার” শব্দটি বিতর্কিত একটি শব্দ, যা জোরপূর্বক ঢাবিসহ সারা দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে এ কোটা বাতিলের পক্ষে আল্টিমেটাম দেয়।
এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সামাজিক প্রেক্ষাপটে ধর্মীয়ভাবে ট্রান্সজেন্ডারসহ এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায়কে তাদের যে অধিকার, তা থেকে বঞ্চিত করা হয়। মানুষের নিজস্ব যৌন পরিচয় প্রকাশ করার যে অধিকার এবং স্বাধীনভাবে নিজস্ব পরিচয়কে ধারণ করে জীবনধারণের যে মৌলিক মানবাধিকার, সেটিকে খর্ব করা হলো।
যৌন পরিচয় মানুষের নিজস্ব অধিকার। প্রতিটি মানুষ নিজস্ব যৌন পরিচয়ে রাষ্ট্রে নিজস্ব প্রবৃত্তি নিয়ে জীবনকে উপভোগ করবে—এটিই কাঙ্ক্ষিত। এমন মানুষদের প্রতি বিরূপ প্রতিক্রিয়াসহ বৈষম্য ও সহিংসতা বন্ধে সকল নাগরিকদেরও সহনশীল ও মানবিক ভুমিকা পালন করা প্রয়োজন।

