সম্প্রতি ধর্মীয় মৌলবাদী সংগঠন হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক বলেন, “মেয়েদের প্রথম ঋতুচক্রের পরই বিয়ে দেওয়া হলে আর শিশু ধর্ষণের মতো ঘটনা ঘটবে না।”
শিশু ধর্ষণ রোধে ধর্মের দোহাই দিয়ে কিশোরীদের অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় বিয়ে দেওয়ার মতো বিষয়কে উপস্থাপন করা উদ্বেগজনক। বাংলাদেশের রাষ্ট্র ও সমাজব্যবস্থায় ধর্মীয় প্রভাব এবং তথাকথিত ধর্মীয় আলেমদের এ ধরনের অপ্রাসঙ্গিক বক্তব্য নারী ও শিশুর অধিকারের পরিপন্থী, যা বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ীও অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (২০০০ সনের ৮ নং আইন) এবং বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭-এর স্পষ্ট বিরোধী।
কিন্তু কথিত এ ধর্মীয় আলেমদের এমন মন্তব্যের পেছনের কারণ কী?
ধর্ম?
নবী মুহাম্মদের জীবনের দিকে যদি তাকাই, দেখা যায় নবী মুহাম্মদ (সা.) মাত্র ৬ বছর বয়সে স্ত্রী হযরত আয়েশা (রা.)-কে বিয়ে করেন এবং ৯ বছর বয়সে তাঁদের দাম্পত্য জীবনের শুরু হয়। তিনি স্বপ্নের মাধ্যমে আল্লাহর পক্ষ থেকে এই বিয়ের ব্যাপারে নির্দেশনা/অনুমতি পেয়েছেন বলে উল্লেখ রয়েছে। তবে ১৪০০ বছর আগের সামাজিক বাস্তবতা ভিন্ন ছিল, কিন্তু বর্তমান বাংলাদেশের আইনে এবং সমাজব্যবস্থায় এটি অপরাধ।
কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়—একই নির্দেশনা সকল মুসলমানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য কি না?
বর্তমান আধুনিক সমাজে এটি গ্রহণযোগ্য নয় এবং প্রচলিত আইনে এটি অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। কারণ বাল্যবিবাহ/অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের বিবাহ বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ দ্বারা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। শিশুর মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও এটি অনুপযুক্ত। এমন ক্ষেত্রে ধর্মীয় বিধান কতটা প্রয়োগযোগ্য, সেটি বিবেচনার বিষয়।
কিন্তু আল্লামা মামুনুল হকের মতো কথিত আলেমরা, যারা ধর্মের লেবাসে উগ্রবাদ ও চরমপন্থার বিস্তার ঘটায় এবং তথাকথিত ধর্মকে ব্যবহার করে ধর্মীয় রাজনীতির নামে দেশের প্রচলিত আইনকে অমান্য করে এক ধরনের অসহিষ্ণুতা তৈরি করে—তাদের এ ধরনের ধর্মীয় ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্যতা রাখে না।
প্রতিটি নারী ও কিশোরীর বিয়ের ক্ষেত্রে ধর্মীয় আইন গুরুত্বপূর্ণ, তবে একজন কিশোরীর মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিতে হবে।

