স্বাধীনতার অর্ধশতক। বাংলাদেশে ভিন্ন যৌন পরিচয়ের মানুষ আজও সামাজিক বিদ্বেষ, কটূক্তি, পারিবারিক বর্জন এবং প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্যের শিকার। এই দেশে প্রত্যেক মানুষ, তার যৌন পরিচয়, পোশাক, মতাদর্শ চর্চার মধ্য দিয়ে পূর্ণ অধিকার ও নিরাপত্তা নিয়ে বাঁচবে।
বাংলাদেশের আইনেও ৩৭৭ ধারায় লজিবিটিকিউ সম্প্রদায়ের মানুষকে রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে মর্যাদার সঙ্গে নয়, অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যা মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন। এমন আইনগুলো এখনও টিকে আছে শুধুমাত্র বাংলাদেশের এক শ্রেণীর উগ্র ধর্মান্ধ ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসী একদল সুনির্দিষ্ট গোষ্ঠীর জন্য।
যৌন বৈচিত্র্যকে ধর্মান্ধ জনগোষ্ঠীর সংকীর্ণ ব্যাখ্যায় লুকিয়ে রাখা হয়। জীবন এখানে হুমকিসম্পন্ন, ব্যক্তিস্বাধীনতা বিপর্যস্ত। ঔপনিবেশিক যুগের দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারা অনেক মানুষের জীবনে ভয় ও অনিশ্চয়তার ছায়া ফেলেছে। এই ধারা শুধু একটি আইন নয়, বরং বহু মানুষের অস্তিত্বকে অস্বীকার করা।
ভিন্ন যৌন পরিচয়ের মানুষের প্রতি বৈষম্য শুধুমাত্র উগ্রবাদী ইসলামিক গোষ্ঠী জামায়াতে ইসলামী, হেজবুত তাওহীদ, হেফাজতে ইসলাম এ ধরনের কথিত ধর্মান্ধ শ্রেণীর পক্ষ থেকেই দেখা যায়। পরিবর্তনের শুরু হয় প্রশ্ন তোলা থেকে। একজন মানুষ কে ভালোবাসবে, কীভাবে বাঁচবে—কোন লিঙ্গের মানুষের সাথে নিজের যৌনতাকে উপভোগ করবে এটি ব্যক্তি স্বাধীনতা। বাংলাদেশের বিশাল সংখ্যক ধর্মান্ধ জনগোষ্ঠীরা কথিত আলেম, পীর এদের অপব্যাখ্যা দ্বারা প্রভাবিত।
আমাদের বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকেও দেখা যায় বেশিরভাগ অনুষ্ঠানেই যাদের নিয়ে যায় তাঁরা উনার একান্ত সঙ্গী। সেখানে কোনো নারীর উপস্থিতি নেই। এদের অনেককে পুরুষত্বের সৌন্দর্যে দেখতে অসাধারণ। উনি যদি কারো প্রতি আকৃষ্ট হয়ে তাকে যৌনসঙ্গী হিসেবে পেতে চানও, সেটি কেন অপরাধ হবে? প্রাপ্তবয়স্ক যে কোনো মানুষ নিজেদের ইচ্ছায় যে কোনো লিঙ্গের মানুষের প্রতি আকৃষ্ট হতে পারেন। এই সিদ্ধান্ত তার নিজের হওয়াই যুক্তিসঙ্গত। রাষ্ট্র যদি সত্যিই সবার জন্য হয়, তাহলে সেখানে ভয় নয়, বরং সমান অধিকার ও সম্মানের নিশ্চয়তা থাকতে হবে।

